সোয়ালাতে প্রচলিত ভুল

পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত সোয়ালাত আদায় করার ক্ষেত্রে মুমিন সর্বাধিক সতর্ক হবে। যথাসম্ভব নির্ভূলভাবে সোয়ালাত সম্পাদন করতে সচেষ্ট হবে। সোয়ালাতের ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত এবং সোয়ালাতের পূর্বাপর বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিশুদ্ধভাবে পালন করবে। তার সোয়ালাত নবী মুহাম্মাদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সোয়ালাতের সাথে মিলছে কি না তা নিশ্চিত হয়ে নিবে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা কি? বর্তমানে মুসলমানদের সোয়ালাতের অবস্থা দেখলে মনে হয়না যে তারা সোয়ালাতের মত শ্রেষ্ঠ ইবাদতটি আদায় করছেন। দেখা যায় অধিকাংশ লোকের সোয়ালাত বিভিন্ন ধরণের ভুলে ভরা।
Continue reading “সোয়ালাতে প্রচলিত ভুল”

কুরবানী ও ঈদের বিধি-বিধান

পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

কুরবানীর বিধি-বিধান:
কুরবানী মূলত: জীবিত মানুষের জন্য। যেমন মুহাম্মাদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের পক্ষ থেকে এবং তাঁদের পরিবার-পরিজনের পক্ষ থেকে কুরবানী করতেন। কিন্তু কিছু মানুষ মনে করে কুরবানী কেবল মৃতদের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর আদৌ কোন ভিত্তি নাই।

Continue reading “কুরবানী ও ঈদের বিধি-বিধান”

মুহাম্মাদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সোয়ালাত

পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং দরূদ ও ছালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দাহ ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সাহাবাগণের প্রতি।

আমি প্রত্যেক মুসলমান নারী ও পুরুষের উদ্দেশ্যে মুহাম্মাদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করতে ইচ্ছা করছি। এর উদ্দেশ্য হলো যে, যাঁরা এটি পাঠ করবেন তাঁরা যেন প্রত্যেকেই সোয়ালাত আদায়ের বিষয়ে মুহাম্মাদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ করতে পারেন। এ সম্পর্কে মুহাম্মাদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা সেভাবে সোয়ালাত আদায় কর, যে ভাবে আমাকে সোয়ালাত আদায় করতে দেখ।” [বুখারী]

Continue reading “মুহাম্মাদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সোয়ালাত”

অত্যাচারী শাসক

পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

হযরত আবুদ্দর্দা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, মুহাম্মাদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ বলেন, আমি সমস্ত সৃষ্টির উপাস্য, আমাকে ছাড়া কোন উপাস্য নেই। আমি রাজন্যবর্গের অধিপতি, সম্রাটদের সম্রাট। রাজাদের অন্তর আমার নিয়ন্ত্রণাধীন। বান্দাগণ যখন আমার অনুগত্য করে, তখন তাদের রাজা বাদশাদের অন্তরকে রহমত ও করুনার সমন্বয়ে তাদের দিকে ঘুরিয়ে দেই। আর যখন বান্দারা আমার অবাধ্যতা অবলম্বন করে, তখন রাজা বাদশাদের অন্তরকে রাগ ও কঠোরতার দিকে ঝুঁকিয়ে দেই, যার ফলে তারা প্রজাদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করায়। সুতরাং হে বান্দাগণ! তোমরা রাজা বাদশাহদের জন্য বদ দোয়া করো না; বরং আমার স্মরণে আত্মনিয়োগ কর এবং আমার সামনে কান্না কাটি করতে থাক; আমি তোমাদের জন্য যথেষ্ট হব। (অর্থাৎ, আমি তোমাদের সাহায্য করব। রাজা বাদশাহ তথা শাসন কর্তাদের অন্তরে করুনা সঞ্চার করে দেব।) [আবু নোয়াইম হিলইয়া গ্রন্থ]
Continue reading “অত্যাচারী শাসক”

বাংলা নববর্ষ

পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

নববর্ষ বা New Year’s day –এই শব্দগুলো নতুন বছরের আগমন এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব-অনুষ্ঠানাদিকে ইঙ্গিত করে। এতদুপলক্ষে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, হাসিঠাট্টা ও আনন্দ উপভোগ, সাজগোজ করে নারীদের অবাধ বিচরণ ও সৌন্দর্যের প্রদর্শনী, রাতে অভিজাত এলাকার ক্লাব ইত্যাদিতে মদ্যপান তথা নাচানাচি, পটকা ফুটানো –এই সবকিছু কতটা ইসলাম সম্মত? ৯০ ভাগ মুসলিম যে আল্লাহতে বিশ্বাসী, সেই আল্লাহ কি মুসলিমদের এই সকল আচরণে আনন্দ-আপ্লুত হন, না ক্রোধান্বিত হন?
Continue reading “বাংলা নববর্ষ”

পহেলা বৈশাখ

পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

এপ্রিল মাসে আমরা বাংলাদেশীরা একটি উৎসব করে থাকি, তা হলো ১৪ই এপ্রিল। অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ পালন করা। আমাদের দেশে প্রচলিত বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন মূলতঃ ইসলামী হিজরি সনেরই একটি রূপ। ভারতে ইসলামী শাসনামলে হিজরি পঞ্জিকা অনুসারেই সকল কাজ কর্ম পরিচালিত হতো। মূল হিজরি পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের উপর বির্ভরশীল। চান্দ্র বৎসর সৌর বৎসরের চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়। সৌর বৎসর ৩৬৫ দিন, আর চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিন। এ কারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে না। আর চাষাবাদ ও এ জাতীয় অনেক কাজ ঋতু নির্ভর। এজন্য ভারতের মোগল সম্রাট আকবরের সময় প্রচলিত হিজরি চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
Continue reading “পহেলা বৈশাখ”

কোয়ান্টাম মেথড

পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

“আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন বা জীবন বিধান হিসেবে মনোনীত করলাম।” [সূরা আল মায়েদাহ: ৩]
Continue reading “কোয়ান্টাম মেথড”

ভালবাসা দিবস

পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন বা জীবন-ব্যবস্থা হিসেবে বাছাই করেছেন এবং তিনি অন্য কোন জীবন-ব্যবস্থা কখনও গ্রহণ করবেন না, তিনি বলেন: “এবং যে কেউই ইসলাম ছাড়া অন্য কোন জীবন-ব্যবস্থা আকাঙ্খা করবে, তা কখনোই তার নিকট হতে গ্রহণ করা হবে না, এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন৷” [সূরা আল ইমরান, ৩:৮৫] Continue reading “ভালবাসা দিবস”

লোক দেখানো আমলের পরিণতি

পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে, সে হবে একজন (ধর্মযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী) শহীদ। তাকে আল্লাহ্‌র নিকট উপস্থিত করা হবে। অতঃপর আল্লাহ্‌ পাক তাকে (দুনিয়াতে প্রদত্ত) নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। আর সেও তা স্মরণ করবে। এরপর আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, দুনিয়াতে তুমি কি আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য (কাফেরদের সাথে) লড়াই করেছি। এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। তখন আল্লাহ্‌ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তোমাকে যেন বীর-বাহাদুর বলা হয়, সেজন্য তুমি লড়াই করেছ। আর (তোমার অভিপ্রায় অনুযায়ী) তোমাকে দুনিয়াতে তা বলাও হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হবে। তখন তাকে উপুড় করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
Continue reading “লোক দেখানো আমলের পরিণতি”

আল্লাহর রহমতে …

পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম নবী করীম হযরত মুহাম্মাদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি পাহাড়ের উচ্চ চূড়ায় পাঁচশ বছর ধরে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল ছিলেন। ঐ পাহাড়ের চারদিক লবণাক্ত পানি দ্বারা বেষ্টিত ছিল। আল্লাহ তা’আলা তার জন্য পাহাড়ের অভ্যন্তরে সুপেয় পানির ঝর্ণা এবং একটি আনার গাছের সৃষ্টি করেন। প্রতিদিন সেই ব্যক্তি আনার ফল খেত এবং পানি পান করত। আর পানি দিয়ে অযূ করত। সে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা’আলার কাছে এই দু’আ করল- হে আল্লাহ্! আমার দেহ থেকে রূহ যেন সেজদারত অবস্থায় কবয করার ব্যবস্থা করা হয়। আল্লাহ্ তা’আলা তার এই দু’আ কবুল করেন। Continue reading “আল্লাহর রহমতে …”